রবিবার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ - ১৪:০৭
কানাডা তার যাবতীয় ফ্লাইট পাঁচ মাসের জন্য স্থগিত করেছে

জ্বালানি খরচ দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় এয়ার কানাডা টরন্টো ও মন্ট্রিয়েল থেকে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের সব ফ্লাইট আগামী পাঁচ মাসের জন্য (সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত) স্থগিত করেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, জেট ফুয়েলের দাম ১০০% এর অধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এয়ার কানাডা (কানাডার সবচেয়ে বড় এয়ার লাইন্স)  টরেন্টো ও মন্ট্রিয়েল থেকে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাবতীয় ফ্লাইট পাঁচ মাসের জন্য (সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত) স্থগিত করেছে।---- শাবাকেয়ে খবর (IRINN: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিউজ নেটওয়ার্ক) ৩০-১-১৪০৫

এ খবর নিয়ে কিছু কথা:

উল্লেখ্য যে কানাডা নিজেই এক বৃহত্তম জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং এ দেশ প্রথম পাঁচ বৃহত্তম জ্বালানি তেল সম্পদের রিজার্ভের অধিকারী দেশের অন্তর্ভুক্ত;আর একারণেই মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) লোলুপ দৃষ্টি এ দেশের তেল সম্পদের ওপর তো রয়েছেই।কানাডা প্রতিদিন ৪ মিলিয়ন ব্যারেলের অধিক ক্রুড ওয়েল (অপরিশোধিত তেল) মাযুরায় রফতানি করে।

ইরানের ওপর মানবতার সবচেয়ে বড় শত্রু মাযুরা ও ইতর বদমাইশ ইতরাইলের (ইসরাইল) চাপানো ৪০ দিনের নাহক (অন্যায়) যুদ্ধ ও ইরান কর্তৃক হোর্মুয প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ভার নেওয়ার কারণে যদি কানাডার মতো শিল্পোন্নত উন্নত প্রযুক্তি ও বিশাল জ্বালানি তেল সম্পদের অধিকারী ধনী দেশের এহেন গুরুতর দুর্দশা হয় এবং বিমানের জ্বালানি তেলের দাম ১০০%এর অধিক বৃদ্ধি পাওয়ার ধকল সহ্য করতে না পারে (যার জন্য টরেন্টো ও মন্ট্রিয়েল থেকে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকল ফ্লাইট পাঁচ মাসের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে) তাহলে অন্য সকল দেশ যাদের জ্বালানি তেলের খনি নেই অথবা খুব কম যেমন: গো উপাসক (গরু পূজারী) ভারত তাদের দশা ও অবস্থা কতটা শোচনীয় হবে?!!!! খোদ মাযুরার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের অবস্থা যে নি:সন্দেহে অত্যন্ত ভয়াবহ ও শোচনীয় হবে এমনকি কানাডার চেয়েও তা খুব সহজেই অনুমেয়।

কিন্তু মাযুরা তা জানান দিচ্ছে না এবং সেভাবে মাযুরার প্রধান প্রধান সংবাদ মাধ্যমও এ কথা বলছে না। কারণ এতে করে ইরানের ওপর মাযুরা ও ইতরাইলের চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় ও নাহক যুদ্ধে ইরানের কাছে তাদের হার ও পরাজয়ের চিত্র খুব প্রকট ভাবে ফুটে উঠবে!!!

বিশ্বের উচিত মাযুরা,ইতরাইল ও পশ্চিমাদের সকল অন্যায়,অপরাধ ও দুষ্কর্মের বরাবরে নিশ্চুপ বসে না থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও বাধাদান।আর এত কিছুর পরও যদি সারা বিশ্ব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে তাহলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট আরো মারাত্মক হবে যার ভুক্তভোগী হবে সবাই, নিজেদের কর্তব্য ও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার জন্য।ইরান অন্যায় ভাবে নয় বরং সম্পূর্ণ বাধ্য হয়েই হোর্মুয প্রণালী বন্ধ করেছে।

এখন বিশ্ববাসীর উচিত ইরানের পক্ষাবলম্বন করে যালিম,যুদ্ধাপরাধী,আগ্রাসী, গণহত্যাকারী মানবতাবিরোধী মাযুরা ও ইতরাইলকে ঠেকানো এবং তাদের মানবতা বিরোধী দুষ্কর্ম ও যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা। এখন সুবর্ণ সুযোগ এসেছে বিশ্ববাসীর কাছে। এই মহা সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাসী মাযুরা ও পশ্চিমাদের সকল অন্যায়,শোষণ,বৈষম্য,নিষ্পেষণ,অনাচার-অত্যাচার ও অবৈধ আধিপত্যের হাত থেকে খালাস (মুক্তি) ও রেহাই পেতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইরানের ওপর মাযুরা ও ইতরাইলের চাপিয়ে দেওয়া নাহক এ যুদ্ধ ও হোর্মুয প্রণালী বন্ধ করায় তেল উৎপাদনকারী দেশ কানাডায় বিমানের জ্বালানি তেলের (১০০%এর অধিক) মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটির সবচেয়ে বড় এয়ার লাইন্স এয়ার কানাডার ফ্লাইট কার্যক্রম ৫ মাসের জন্য বন্ধ করার খবর থেকে সে দেশটির অর্থনীতির ওপর যে বড় একটা ধাক্কা এসেছে এবং মারাত্মক কুপ্রভাব পড়েছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। শুধু কানাডা নয় মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) এবং পশ্চিমা বিশ্ব সহ সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিও মাযুরা ও ইতরাইলের এ অবৈধ যুদ্ধের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

অতএব নি: সন্দেহে বলা যায় যে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইতরাইল হচ্ছে বিশ্বব্যাপী ফিৎনা-ফাসাদের (অশান্তি,গোলযোগ, বিশৃঙ্খলা,নষ্টামি ও ধ্বংস) মূল উৎস্য এবং পবিত্র কুরআনের সূরা-ই বাকারার এ আয়াত (১২): ((সাবধান!এরাই অশান্তি সৃষ্টি কারী, কিন্তু এরা তা বুঝতেই পারে না (অনুভব ও উপলব্ধি করে না)।))--এ উল্লেখিত অশান্তি সৃষ্টি কারী মুফসিদের প্রকৃত বাস্তব নমুনা বা মিসদাক্ব হচ্ছে পাশ্চাত্য বিশেষ করে এই দুই দেশ।

ألا إنهم هم المفسدون ولٰکن لا یشعرون

এই পশ্চিমারা বিশেষ করে মাযুরা ও ইতরাইল এতটাই খবীস, পিশাচ, নির্লজ্জ ও মুখরা যে পবিত্র কুরআনের ভাষায় যদি এদেরকে বলা হয় যে পৃথিবীতে অশান্তি (ফাসাদ) সৃষ্টি করো না,তখন তারা বলতে থাকে,"আমরাই তো শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনকারী,সংস্কারক ও সংশোধক (মুসলিহ্)!!!(দ্রঃ সূরা-ই বাকারা:১১)

وإذا قیل لهم لا تفسدوا في الأرض،قالوا إنما نحن مصلحون.

ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক: মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha